নিজেস্ব প্রতিবেদক:
যশোর শহরের মাইকপট্রি এলাকায় অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক যশোর শাখায় এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা লুট করে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুরে ভুক্তভোগীরা ব্যাংক ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। তারা অভিযোগ করেন, ব্যাংকের জসিম উদ্দিন নামের এক কর্মকর্তা তাদের এফডিআর ও সঞ্চয় হিসাবের টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা যশোর মাইকপট্রি এলাকায় অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক যশোর শাখায় এফডিআর ও সঞ্চয় হিসাবে টাকা জমা রাখছিলেন। সম্প্রতি টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে এসে তারা জানতে পারেন, তাদের হিসাবে আর কোনো অর্থ নেই। পরে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিভিন্ন কৌশলে তাদের হিসাব থেকে টাকা তুলে নিয়েছেন।
তাদের দাবি, ন্যূনতম ১৩ জন গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুট করা হয়েছে। প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
ভুক্তভোগীদের একজন সেলিনা খাতুন জানান, টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়ে জসিম উদ্দিন তাকে অগ্রণী ব্যাংক যশোর শাখার একটি চেক প্রদান করেন। চেকটির পরিমাণ ৬ লাখ টাকা, তারিখ দেওয়া রয়েছে ২৩ জুন ২০২৫ এবং চেকের হিসাব নম্বর ৬৫৪২৩৯। তবে নির্ধারিত সময়ে চেকটি নগদায়নের জন্য জমা দিলে তা কার্যকর হয়নি। এতে তিনি নিশ্চিত হন যে, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
আরেক ভুক্তভোগী ডা. মো. আবু সাইম জানান, তিনিও একই ধরনের প্রতারণার শিকার। তিনি যশোর শহরের জনতা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক লিমিটেডে কর্মরত। তার অভিযোগ, জসিম উদ্দিন বিভিন্ন প্রলোভন ও আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকেও বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা শুরু করেন এবং এক পর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
শনিবার ভুক্তভোগীরা ব্যাংকে এসে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সেখানে পাননি। তারা আরও অভিযোগ করেন, ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শাখায় উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে কৌশলে স্থান ত্যাগ করেন এবং কারও কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ভেতর থেকে গেট তালা মেরে দেয়। ভুক্তভোগীদের জানানো হয়,
“আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না। আপনারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন।”
পরে ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা শুনেছেন এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। তবে যিনি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মামলা করেছে এবং মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, তারা আগেই বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-কে অবহিত করেছিলেন। দুদক প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধানের আশ্বাস দিলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। তবে সংস্থাটি তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের যশোর শাখায়, বিশেষ করে যশোর মাইকপট্রি এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক স্থানে এমন গুরুতর আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও দায়বদ্ধ বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না। এতে গ্রাহকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।
তারা দ্রুত অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার, আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার ও ভুক্তভোগীদের কাছে ফেরত দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনা ব্যাংকিং খাতে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং গ্রাহক সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যশোর জার্নাল
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ আসিফ আকবর সেতু।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক:বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি, যশোর (সাবেক)
মোবাইলঃ +৮৮ ০৯৬৯৬০৭০৩৯১
Gmail: jashorejournal@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত