
নিজেস্ব প্রতিবেদক:
যশোরে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশ বলছে, অধিকাংশ হত্যার পেছনের কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে এবং জড়িতদের একটি অংশকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপির এক নেতাকে গুলি করে হ’ত্যা করা হয়। নি’হ’ত আলমগীর হোসেন (৫৫) যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নগর বিএনপির সাবেক সদস্য ছিলেন। তিনি শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের তথ্যমতে, পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এর দুদিন পর, ৫ জানুয়ারি মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে এক বরফকল ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে গু’লি ও গলা কে’টে হ’ত্যা করা হয়। নি’হ’ত রানা প্রতাপ বৈরাগী (৩৮) কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের তুষার কান্তি বৈরাগীর ছেলে। কপালিয়া বাজারে তার বরফ তৈরির একটি কারখানা ছিল। পাশাপাশি তিনি নড়াইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক বিডি খবর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন।
পুলিশ জানায়, রানা প্রতাপ বৈরাগীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। অভয়নগর থানায় একটি হ’ত্যা মামলা ও একটি নারী নি’র্যা’ত’ন মামলায় তিনি চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন। এছাড়া কেশবপুর থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে তিনটি মামলা রয়েছে। ২০১৪ সালে নওয়াপাড়ার সাবেক শ্রমিকনেতা ওলিয়ার রহমান হ’ত্যা মামলাতেও তিনি অভিযুক্ত ছিলেন।
নি’হ’তের স্ত্রী সিমা মজুমদার বলেন, এর আগেও রানাকে মা’রা’র চেষ্টা হয়েছিল এবং কয়েক দফা হু’ম’কি দেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে।
রানার মা, স্কুলশিক্ষক মাধুবী লতা বিশ্বাস বলেন, একসময় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পাঁচ বছর আগে তার ছেলে সে পথ ছেড়ে দেয়। তার দাবি, অতীতে তাকে চরমপন্থি হিসেবে ফাঁ’সানো হয়েছিল এবং বর্তমান হ’ত্যা’কাণ্ডও ব্যবসাকেন্দ্রিক বিরোধের ফল। তিনি ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেন।
এদিকে, একের পর এক এমন ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আত’ঙ্ক বাড়ছে। যশোর শহরের বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, প্রকাশ্যে দিবালোকে হ’ত্যা’র ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার জানান, জেলায় এ পর্যন্ত হওয়া ৬২টি হ’ত্যা’কাণ্ডের মধ্যে অধিকাংশ ঘটনার উদ্দেশ্য বা মোটিভ শনাক্ত করা গেছে। সংশ্লিষ্ট অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হ’ত্যা’র রহস্য উন্মোচন হয়েছে। জামাইয়ের পরিকল্পনা এবং তার সরবরাহ করা অ’স্ত্র দিয়েই এই হ’ত্যা সংঘটিত হয়েছে বলে শু’টা’রের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রানা প্রতাপ বৈরাগী হ’ত্যা’কাণ্ডের তদন্তও চলমান রয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।
তথ্য সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন