
ডেস্ক রিপোর্ট:
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ এখনো পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান।
রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র্যাবের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, লুট হওয়া সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং নির্বাচনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখা প্রয়োজন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে রিটে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যালয় থেকে প্রায় ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়। সরকার পুরস্কার ঘোষণা করলেও এসব অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি।
রিটে আরও বলা হয়, এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র অপরাধীদের হাতে থাকায় আসন্ন নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের এমপি প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদির গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাকে এই ঝুঁকির বাস্তব উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহর বক্তব্য উদ্ধৃত করে রিটে বলা হয়, নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়, সরকার কিছু প্রার্থীর জন্য গানম্যানের ব্যবস্থা করলেও সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থীদের জীবনাধিকারের পরিপন্থী হবে বলে দাবি করা হয়েছে।
তথ্য সুত্র: দেশ টিভি