
নিজেস্ব প্রতিবেদক:
যশোর শহরে বিভিন্ন কৌশলে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাহমুদা নামে এক নারীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয়রা। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরের দিকে শহরের বড়বাজার এলাকার এইচ.এম.এম রোড থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে যশোর কোতোয়ালি থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইন্স্যুরেন্সের নামে বিনিয়োগ, চাকরি দেওয়ার আশ্বাস এবং বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শনিবার কয়েকজন ভুক্তভোগী তাকে এলাকায় দেখতে পেয়ে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে আরও অনেকে ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এ সময় তার ছেলে মাহিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীদের মধ্যে কয়েকজন তাকে মারধরও করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী মো. হাবিবুর রহমান (পিতা: মৃত বজলুর রহমান), চাঁদপাড়া থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মো. মেহেদি হাসান (পিতা: ইমান আলী সরদার), বাঘারপাড়া খলসি থেকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, শাহীনা সুলতানা (পিতা: আনসার আলী), আরবপুর পারসহাউজ থেকে ১ লাখ টাকা এবং ইন্নাতুল হাসান ও ইকবাল হাসানের কাছ থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মো. পারভেজ, নাসরিন খাতুন (পিতা: আবুল হোসেন) এবং সাহিনা সুলতানাসহ আরও কয়েকজন তার কাছে টাকা পাওনার দাবি করেছেন। স্থানীয়রা জানান, এ তালিকার বাইরে আরও অনেক ভুক্তভোগী রয়েছেন যারা ধীরে ধীরে সামনে আসছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাহমুদা এলাকায় ‘মামলাবাজ’ হিসেবেও পরিচিত। তাদের দাবি, বিভিন্ন সময় মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই মামলা করে হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, আটক ওই নারীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়গুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।