নিজেস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার শিবনগর এলাকায় একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন আমবাগান থেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ১১০টি গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন চুয়াডাঙ্গার সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজার মো. করিমুজ্জামান ওরফে মিঠু।
জমির মালিক দামুড়হুদার চন্দ্রবাস গ্রামের বাহালুল হক (মৃত মওলা বকসের ছেলে) অভিযোগ করেন, তার প্রায় ১৮ বিঘা জমির ওপর অবস্থিত আমবাগানে (শিবনগর ডিসি ইকো পার্কের সামনে) গত ৯ মার্চ বেলা ১১টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত অনধিকার প্রবেশ করে গাছ কেটে নিয়ে যায়। এ সময় বাদী বাগানে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলে আসামিরা তাকে গালিগালাজ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
দুর্বৃত্তরা ১৫টি মেহগনি গাছ, ৫টি লম্বু গাছ, ১৮টি কচালম্বু গাছ, ২টি একাশি গাছ ও ৭০টি বাঁশ গাছ কেটে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া আম গাছসহ অন্যান্য গাছের ডালপালা কেটে ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ ১১ লাখ ২৮ হাজার টাকা (কেটে নিয়ে যাওয়া গাছের মূল্য প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা এবং ক্ষতিসাধন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা)।
বাদী বাহালুল হক দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ধারা: পেনাল কোডের ৪৪৭/৩৭৯/৪২৭/৫০৬/৩৪।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: মো. করিমুজ্জামান ওরফে মিঠু (৫৫), চুয়াডাঙ্গা মুক্তিপাড়া, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজার (মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে) বকুল শেখ (৫১), চুয়াডাঙ্গা কোর্টপাড়া (মৃত হায়দার আলীর ছেলে) নজরুল ইসলাম (৬৫), দামুড়হুদা কুতুবপুর (সুরত আলী মন্ডলের ছেলে)ওসমান আলী (৪৫), একই গ্রাম (মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে)।
গত বুধবার ১১ মার্চ দুপুরে দামুড়হুদা আমলী আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরান ঢালী আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
দামুড়হুদা মডেল থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শুভজিৎ পাল জানান, চুরি হওয়া গাছ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এজাহারভুক্ত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই আমবাগানে একদিল শাহ নামে এক পীরের কথিত মাজার থাকার অভিযোগে আসামিরা বিগত ২০ বছর ধরে বাদী বাহালুল হক ও তার বাবা মওলা বকসের বিরুদ্ধে এক ডজনেরও বেশি মামলা করেছেন। সব মামলায় আদালত থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বাদীরা। বর্তমানে দামুড়হুদা সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানী মোকদ্দমা নং ১১৩/২০০৬ চলমান রয়েছে, যেখানে বাদী বিবাদী হিসেবে রয়েছেন। প্রকৃত মাজারটি আলমডাঙ্গা থানার দক্ষিণ গোবিন্দপুর ও বেতবাড়িয়া গ্রামের মাঝামাঝি অবস্থিত বলে জানা গেছে।
যশোর জার্নাল
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ আসিফ আকবর সেতু।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক:বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি, যশোর (সাবেক)
মোবাইলঃ +৮৮ ০৯৬৯৬০৭০৩৯১
Gmail: jashorejournal@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত