নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোর জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের অভিযানে অনলাইনে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে কোটি টাকার প্রতারণার সঙ্গে জড়িত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, গমের ভূষি ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের এসআই দেবব্রত ঘোষের নেতৃত্বে একটি দল গত ৫ আগস্ট রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে যশোর কোতোয়ালি থানার নাজির শংকরপুর হাজারি রেলগেট এলাকা থেকে মো. মনিরুল ইসলাম (২৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাত প্রায় ২টা ৪০ মিনিটে যশোর শহরের লিচুবাগান (পুরাতন কসবা) এলাকার একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে খালেক সরকার (৩৩)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বাদী মানিক কুমার আগরওয়াল চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা এবং মেসার্স আর এস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী। তিনি আমদানি ও স্থানীয় ট্রেডিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ‘কাজী ফার্মস লিমিটেড, যশোর’-এর পরিচালক পরিচয় দিয়ে বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করে ৭৫ মেট্রিক টন গমের ভূষি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে। প্রতি কেজি ৩২ টাকা দরে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার পরিচয়ে আরেক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে।
প্রতারকদের নির্দেশনা অনুযায়ী ২২ জুলাই দুটি ট্রাকে ২৮ হাজার ১০ কেজি এবং ২৫ জুলাই আরও তিনটি ট্রাকে ৪০ হাজার ৪১০ কেজি গমের ভূষি নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর গাড়ি ভাড়া, সিকিউরিটি মানি ও ভ্যাটের অজুহাতে নগদ অর্থ, মোবাইল ব্যাংকিং এবং ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ৩১ জুলাই ব্যক্তিগত প্রয়োজনে আরও ৩০ হাজার টাকা ধার চাওয়ায় বাদীর সন্দেহ হয়। পরে ২ আগস্ট তিনি সরাসরি যশোরে কাজী ফার্মস লিমিটেডের কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, প্রতিষ্ঠানটি এমন কোনো অর্ডার দেয়নি এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বা ছবি তাদের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর নয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, মালামাল বহনকারী ট্রাক থেকে কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সামনের সড়ক থেকেই প্রতারকরা গমের ভূষি গ্রহণ করে। পুলিশ জানিয়েছে, কাজী ফার্মস লিমিটেডের নাম, ভুয়া পরিচয় এবং হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহৃত ছবি ব্যবহার করে বাদীর কাছ থেকে মোট ৩৪ লাখ ১৯ হাজার ২৫৬ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
অভিযানকালে গ্রেপ্তার হওয়া খালেক সরকারের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৭টি মোবাইল ফোন, ২টি ল্যাপটপ, একটি ২৫০ সিসি মোটরসাইকেল, ৫১টি বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সিম, ব্যাংকের চেকবই, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে প্রস্তুত জাল বিল-ভাউচার, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত ১০ লাখ ৩ হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং আনুমানিক দেড় লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে এসব আলামত প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত এবং প্রতারণালব্ধ অর্থ দিয়ে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনার চাটমোহর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে চক্রের আরেক সদস্য মো. আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলেও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা ৭৭ বস্তা (৩ হাজার ৮৫০ কেজি) গমের ভূষি এবং ১৮৫টি খালি গমের ভূষির বস্তা জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ৬ আগস্ট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে যশোর জেলা পুলিশ।
যশোর জার্নাল
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ আসিফ আকবর সেতু।
মোবাইলঃ +৮৮ ০৯৬৯৬০৭০৩৯১
Gmail: jashorejournal@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত