
নিজেস্ব প্রতিবেদক: যশোর ও লালমনিরহাটকে ঘিরে আলোচিত একটি ঘটনায় নতুন মোড় দেখা দিয়েছে সামিয়া আফরুজ শান্তির সাম্প্রতিক প্রেস ব্রিফিংয়ের পর। রবিবার (১২ এপ্রিল ২০২৬) দেওয়া ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান ও অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ডা. রাফসান জানির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী তার শালিকা সামিয়া আফরুজ শান্তি। পরোকিয়া সম্পর্ক ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকেই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ঘটনার শুরুতে সামিয়া আফরুজ নিজ উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক আসিফ আকবর সেতুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের স্বার্থে তিনি বিভিন্ন ছবি, ডকুমেন্ট ও ভিডিও সাংবাদিকের কাছে প্রেরণ করেন বলে জানা গেছে। এসব উপকরণের মধ্যে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কথোপকথনসংক্রান্ত কিছু তথ্যও ছিল, যা পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ে গুরুত্ব পায়।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়লে ডা. রাফসান জানি দাবি করেন, তার শালিকা মানসিকভাবে অসুস্থ এবং বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, সামিয়া আফরুজ মনিরামপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এবং সেখানে অবস্থান করছেন বলেও জানা গেছে।
মনিরামপুর থানার ওসি মো. রজিউল্লাহ খান বলেন, ওই তরুণী নিজেই থানায় এসে ধর্ষণ মামলা করেছেন। তাকে দুই দিন আটকে রেখে মামলার কপিতে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগও সত্য নয়।
সামিয়া আফরুজ পরে সাংবাদিকদের জানান, তিনি মামলা করবেন এবং মামলার কপি দিলে সেটি প্রকাশ করতে অনুরোধ করেন—যা সংবাদ প্রকাশের প্রচলিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত।
এদিকে, সাংবাদিক আসিফ আকবর সেতুর সঙ্গে মনিরামপুর এলাকার কোনো সাংবাদিক বা থানা পুলিশের কারোরই কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, অভিযোগ রয়েছে—ডা. রাফসান জানির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার কারণে তিনি পেশাগত কার্যক্রমে জটিলতায় পড়েন এবং সাময়িকভাবে কর্মস্থলের দায়িত্ব থেকে বিরত আছেন। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ প্রকাশের পর ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলাকালে তিনি শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে পরিবারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এ সময় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আলোচনার জন্ম দেয়।
এছাড়া, সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে—জিহাদ নামে খাজুরা এলাকার এক ব্যক্তি, যিনি ডা. রাফসান জানির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত, তিনি সাংবাদিক আসিফ আকবর সেতুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন এবং সংবাদটি প্রকাশ না করার বিষয়ে তদবির করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে চাপ ও হুমকির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বতন্ত্র প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
অন্যদিকে, সামিয়া আফরুজকে মামলা করতে সাংবাদিক আসিফ আকবর সেতু প্ররোচনা দিয়েছেন—এমন অভিযোগের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং জানা গেছে, তিনি নিজ উদ্যোগেই সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এবং পরবর্তীতে বিষয়টি সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
এদিকে, সাংবাদিক আসিফ আকবর সেতুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসিফ আকবর সেতু জাতীয় দৈনিক ‘স্বদেশ বিচিত্রা’র খুলনা বিভাগীয় বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে অতীতে এ ধরনের কোনো অভিযোগের রেকর্ড পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
সব দিক বিবেচনায় দেখা যায়, সাংবাদিক আসিফ আকবর সেতু এই ঘটনায় মূলত তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত হয়নি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ।
ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।