
নিজেস্ব প্রতিবেদক:
করোনা মহামারির পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে এলার্জি, শ্বাসকষ্ট, কাশি, চুলকানি ও ত্বকে ফুসকুড়ির মতো সমস্যার অভিযোগ বেড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, করোনার টিকা নেওয়ার পর থেকেই এসব সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে। যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতায় এমন ধারণা আরও জোরালো হয়েছে।
যশোরের সিসিল নামে এক যুবক জানান, টিকা নেওয়ার পর থেকেই তার এলার্জি আগের চেয়ে বেড়েছে। সামান্য ধুলাবালিতে গেলেই সমস্যা বাড়ে। আরিফ নামে আরেকজন বলেন, নিয়মিত এলার্জির ওষুধ না খেলে তার শরীরে লাল লাল ফুসকুড়ি ওঠে এবং তীব্র চুলকানি শুরু হয়। রুপম নামে এক ব্যক্তি জানান, রাতে এলার্জি বাড়ে, হঠাৎ ঠান্ডা লেগে যায়, কাশি শুরু হয় এবং সহজে সারে না। এ ধরনের অভিজ্ঞতা আরও অনেকের মুখে শোনা যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং তারা চাইছেন, সরকারি উদ্যোগে বিষয়টির সমাধান করা হোক।
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার টিকার সঙ্গে সরাসরি এলার্জি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টির শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত স্বল্পমেয়াদি এবং হালকা ধরনের হয়, যেমন জ্বর, মাথাব্যথা বা শরীর ব্যথা। কিছু ক্ষেত্রে অল্প সময়ের জন্য ত্বকে র্যাশ বা চুলকানি দেখা দিতে পারে, তবে তা খুবই সীমিত এবং অল্পসংখ্যক মানুষের মধ্যে ঘটে। গুরুতর এলার্জিক প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত বিরল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এলার্জি বেড়ে যাওয়ার পেছনে অন্য কারণগুলো বেশি ভূমিকা রাখছে। যেমন—করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে, যা পরবর্তীতে এলার্জির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া বায়ুদূষণ, ধুলাবালি, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং আগে থেকে থাকা এলার্জির সমস্যাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অনেক সময় মানুষ আগের সমস্যাগুলোকে নতুন করে বেশি অনুভব করছেন বা সচেতনতা বাড়ার কারণে বিষয়টি বেশি চোখে পড়ছে।
চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, দীর্ঘদিন ধরে এলার্জি, কাশি বা শ্বাসকষ্ট থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। নিজে নিজে ওষুধ গ্রহণ না করে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ কমানো এবং ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক থাকার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, করোনার টিকা নেওয়ার পর এলার্জি বেড়েছে—এমন অভিযোগ থাকলেও এর পেছনে সরাসরি টিকাই দায়ী—এমন প্রমাণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবুও সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা এবং সরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠছে।