1. live@www.jashorejournal.com : jashorejournal.com : jashorejournal.com
  2. info@www.jashorejournal.com : jashorejournal.com :
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ধর্ষণ অভিযোগ ঘিরে মামলার জটিলতা—মনিরামপুর ঘটনার সঙ্গে যশোরের সাংবাদিকদের কোনো যোগসুত্র নেই যশোরে কালবৈশাখীর তাণ্ডব—বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু, আহত অন্তত ২০ যশোরে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা-বিএমএসএস’র নিন্দা জ্ঞাপণ ও প্রতিবাদ যশোরে তেলের সিরিয়াল ঘিরে ছাত্রদল-যুবদল সংঘর্ষ, আহত ৩ রাফসান জানি–সামিয়া আফরুজ ঘটনায় নতুন মোড়, প্রেস ব্রিফিং ও অভিযোগ ঘিরে নানা প্রশ্ন যশোরে অস্ত্র উদ্ধার মামলায় আরও দুইজন আটক করোনার টিকার পর এলার্জি বেড়েছে—অভিযোগ যশোরে ধ’র্ষ’ণ অভিযোগ ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, ১০ লাখ টাকার ‘ব্ল্যা’কমেইল’ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন যশোরে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মরহুম আব্দুল জলিল খানের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত যশোরে ডা. রাফসান জানির বিরুদ্ধে সাংবাদিকের ৫০ লাখ টাকার মানহানি মামলা দায়ের

যশোরে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা-বিএমএসএস’র নিন্দা জ্ঞাপণ ও প্রতিবাদ

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮৯ বার পড়া হয়েছে

নিজেস্ব প্রতিবেদক:
‎যশোরে শালিকাকান্ডে ফেঁসে যাওয়া দুঃশচরিত্র ডা. রাফসান জানি চাকরি বাঁচাতে ও অপকর্ম ঢাকতে কোতয়ালী আমলী আদালতে দায়ের করা একটি চাঁদাবাজির মামলাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মামলার বাদী জাতীয় দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার খুলনা বিভাগীয় স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক আসিফ আকবর সেতু, ডিবিসি নিউজ টিভির যশোর জেলা প্রতিনিধি সাকিরুল কবীর রিটন, এশিয়ান টিভির যশোর জেলা প্রতিনিধি হাসিবুর রহমান শামীম, নাগরিক ভাবনার মনিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি জাকির হোসেন, অনলাইন কলম কথার সম্পাদক সুমন চক্রবর্তী, এসএম তাজাম্মুল, আব্দুল হাই, নুর ইসলাম নাহিদ, তহিদুল ইসলাম ও দৈনিক অভয়নগরের মনিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি ইসমাইল হোসেনকে এ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করেন।

‎মামলার কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঘটনাটির বিবরণ ও বাস্তব প্রেক্ষাপটের মধ্যে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে—যা সাংবাদিকদের ফাঁসানোর অভিযোগকে শক্তিশালী করছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।

‎মামলায় বাদী ডা. মোঃ রাফসান জানি ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৮৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সাংবাদিক পরিচয়ে একটি চক্র তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময় বিপুল অংকের অর্থ দাবি করে এবং না দিলে ধর্ষণ মামলা ও চাকরিচ্যুতির ভয় দেখায়।

‎তবে মামলার বিবরণ বিশ্লেষণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—

‎প্রথমত, মামলায় বলা হয়েছে, ৮ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে হুমকি ও অর্থ দাবির ঘটনা ঘটে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কোথাও তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ না দিয়ে পরবর্তীতে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

‎দ্বিতীয়ত, মামলায় উল্লেখ রয়েছে—বাদীর শ্যালিকা সামিয়া আফরোজকে সাংবাদিকরা প্রভাবিত করে ধর্ষণ মামলা করতে বাধ্য করেছে। অথচ পরবর্তীতে ওই ভুক্তভোগী নিজেই প্রকাশ্যে এসে অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন এবং সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এতে মামলার বয়ানের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা যায়।

‎তৃতীয়ত, মামলায় কয়েকটি স্থানে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবির কথা বলা হয়েছে—কখনও ৩০ হাজার, আবার কখনও ২০ লাখ টাকা। একই ঘটনায় অর্থ দাবির পরিমাণে এমন অস্বাভাবিক তারতম্য প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

‎চতুর্থত, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ মামলা করাতে ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভুক্তভোগী নিজেই থানায় গিয়ে মামলা করেন এবং পরে বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে আসে—যা সাংবাদিকদের স্বাভাবিক পেশাগত কার্যক্রমের মধ্যেই পড়ে।

‎পঞ্চমত, মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, শ্যালিকাকে থানায় আটকে রেখে জোর করে মামলা করানো হয়। তবে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন প্রমাণ বা প্রশাসনিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তারা একটি আলোচিত অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করেছেন মাত্র। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করতে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

‎সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, যদি কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে প্রকৃত চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকতো, তবে সেটি প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট অডিও, ভিডিও বা লেনদেনের তথ্য থাকার কথা—যা এখন পর্যন্ত প্রকাশ পায়নি।

‎এদিকে মামলাটি বিচারাধীন থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয় পক্ষের বক্তব্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও প্রযুক্তিগত তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

‎ঘটনাটি এখন শুধু একটি মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, আইনের প্রয়োগ এবং ব্যক্তিগত বিরোধ—সবকিছুর একটি জটিল সংমিশ্রণে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

‎এ হীন ও ন্যাক্কারজনক ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি (বিএমএসএস)। সংগঠনটির চেয়ারম্যান মো. সুমন সরদার বলেন, যখনই কোন অপকর্মের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে আসে তখনই সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করা ও ধামাচাপার জন্য চাঁদাবাজির ট্যাগ লাগানো হয়, করা হয় সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন যা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশের জন্য হুমকি। আমরা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও অবিলম্বে দুঃশ্চরিত্র ডা. রাফসান জানির অপকর্মের বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চাই। নতুবা সারা দেশে বিএমএসএস মাঠে নামবে যতক্ষণ পর্যন্ত সুষ্ঠ সুরাহা না হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার যশোর জার্নাল এ সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।

ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট