
নিজেস্ব প্রতিবেদাক:
যশোরে এক বিধবা নারীকে বিয়ে করার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে হামলা, হুমকি ও সামাজিক চাপে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন যশোর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ–এর যুববিষয়ক সম্পাদক পল্লব কুমার দাস শুভ্র। তার দাবি, প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর ভরণপোষণ ও সম্পত্তির অধিকার নিয়ে আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়া এক নারীকে তিনি সামাজিকভাবে বিয়ে করার পর থেকেই আগের শ্বশুরবাড়ির সদস্য ও নিজ পরিবারের কিছু আত্মীয়ের বিরোধিতার মুখে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, ওই নারীর প্রথম স্বামীর ননদ-ভাসুর ও সৎভাই তাকে মানসিকভাবে চাপে ফেলে মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করেন এবং ভিটেমাটি থেকে সরিয়ে দেন। এমন পরিস্থিতিতে পল্লব তাকে আশ্রয় দিয়ে বিয়ে করলেও বিয়ের পরদিনই এক আত্মীয়ের মাধ্যমে হামলার শিকার হন বলে দাবি করেছেন। সে সময় ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরবর্তীতে যশোর সদরের বিরামপুর এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবেশী গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর তিনি খুঁটি থেকে অবৈধ সংযোগ নেন, এতে পল্লবের লাইনে সমস্যা দেখা দেয়। বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগকে জানালে অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও মিটার জব্দ করা হয়। এরপর থেকেই গৌরাঙ্গ ও তার সহযোগীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ। গত ২৬ সেপ্টেম্বরের এক হামলায় পল্লব, তার স্ত্রী ও দুই বছরের সন্তান আহত হন বলে তিনি জানান। এ ঘটনায় একাধিকবার থানায় অভিযোগ ও জিডি করা হয়েছে, তবে অভিযুক্তরা প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে তার দাবি। গত ১১ ফেব্রুয়ারি আবারও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলার চেষ্টা করা হলে ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। সর্বশেষ ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরদিন অভিযুক্তকে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি হাজির হননি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্তকে ফোন করে ডাকা হলেও তিনি আসেননি এবং যোগাযোগও করেননি। স্থানীয় বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধিদের কয়েকজন বলেন, পল্লবের বিরুদ্ধে তাদের কাছে আগে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি এবং ব্যক্তিগতভাবে তারা তাকে ভালো মানুষ হিসেবেই চেনেন। বর্তমানে পল্লব ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।