
যশোরের কেশবপুরে ধানক্ষেতের পাশের একটি মেশিনঘরের গর্ত থেকে উদ্ধার হওয়া দুই মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। নিহতরা হলেন কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নের মাগুরখালী কমলাপুর গ্রামের আলেক সরদার (৪৬) ও তাঁর স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৮)। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, তাঁরা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।
রোববার (১ নভেম্বর) কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় এখনো জড়িত কাউকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।
এর আগে শনিবার রাতে পাঁজিয়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মণডাঙ্গা ও মঙ্গলকোট ইউনিয়নের মাগুরখালী কমলাপুর গ্রামের মধ্যবর্তী মাঠের একটি ধানক্ষেতের পাশে মেশিনঘরের গর্ত থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের আফসার আলী গাজী মাঠে কপির চারা রোপণ করতে গিয়ে কুদ্দুসের সেচ বোরিং ও ধানক্ষেতের পাশের এলাকায় নারী ও পুরুষের দুটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি বিষয়টি তাঁর ভাতিজা শহীদকে জানান। এরপর স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইবাদ আলী ও গ্রাম পুলিশ সিরাজুল ইসলামকে খবর দেওয়া হয়। গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
নিহত মাজেদা বেগমের ভাই রবিউল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার রাত থেকে তাঁর বোন ও ভগ্নিপতি নিখোঁজ ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। শনিবার গভীর রাতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা দুজনের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
রবিউল ইসলাম আরও জানান, আলেক সরদার পেশায় কৃষক ছিলেন। তাঁর বোন মাজেদা বেগম নওয়াপাড়া আকিজ জুট মিলে কাজ করতেন। তাঁর জানা মতে, কারও সঙ্গে তাঁদের কোনো বিরোধ ছিল না।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, নিহত দম্পতির দুই মেয়ে রয়েছে। তাঁদের দুজনেরই বিয়ে হয়েছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল আলেক সরদার মাগুরখালী গ্রামে এক শতক বসতভিটার ওপর নির্মিত একটি ছাপড়া ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন।
ওসি হাফিজুর রহমান জানান, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের ধারণা করা হলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।