1. live@www.jashorejournal.com : jashorejournal.com : jashorejournal.com
  2. info@www.jashorejournal.com : jashorejournal.com :
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যশোরে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন, ৩১ স্টলে মিলছে নানা প্রজাতির গাছ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বানভাসী মানুষের পাশে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি যশোর রেলস্টেশনে অভিযান: অবৈধ ভারতীয় শাড়ি ও প্রসাধনীসহ ৩ নারী আটক যশোর ঝিকরগাছায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা: প্রাণ গেল এক তরুণের, হাসপাতালে আরেকজন যশোরে মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজন গ্রেফতার, উদ্ধার ৬০০ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ৭০ বোতল রেক্টিফাইড স্পিরিট যশোরে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ প্রাইভেট কার জব্দ, গ্রেফতার ২ ঢাকা-যশোর প্রভাতী ট্রেনের দাবিতে ৬ জুলাই যশোর রেলওয়ে জংশনে অবস্থান কর্মসূচি যশোরের বকচর থেকে রাজারহাট: ফের সক্রিয় নকল-ভেজাল মবিল চক্র টেকনাফ সীমান্ত কাঁপিয়ে একের পর এক বিস্ফোরণ, সতর্ক অবস্থানে বিজিবি যশোরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে সংঘর্ষ, মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত’ ঘোষণা দিয়ে হামলার অভিযোগ

মানুষ মরা বিল ও মুক্তিশোরী নদীতে কারেন্ট জালের দখল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা |যশোর জার্নাল

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৫৭৯ বার পড়া হয়েছে

শরিফুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার, মনিরামপুর:

মানুষ মরা বিল এবং মুক্তিশোরী নদীসহ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন বিল, খাল ও নদী এখন প্রভাবশালী দখলদারদের অবাধ দখলদারির শিকার। বর্ষার পানি চারদিকে উপচে পড়লেও মাছ শিকারের প্রাকৃতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো দরিদ্র কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষ। মানুষ মরা বিল ও নদীতে পাটা ও কারেন্ট জাল বসিয়ে মাছ ধরার সব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নদীর বুকেও পাটা জালের এমন দাপট যে সাধারণ মানুষ নৌকা চালিয়েও সহজে যেতে পারছে না।

পাটা দেওয়ার কারণে নদী ও খালে এখন জমে আছে সাগর শেওলা। একটুও ফাঁসা নেই, একটা জাল ফেলানোর মতো পানিও নেই। পাটার কারণে পানি ঠিকমতো প্রবাহিত হতে পারছে না। কেউ পার হতে গেলে নৌকা থমকে যাচ্ছে, মাঝেমধ্যে শেওলা জড়িয়ে নৌকাকে টেনে নিতেও হয়। স্থানীয় মানুষেরা বলছেন, যদি অবিলম্বে পাটা উঠিয়ে ফেলা হয়, তাহলে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হয়ে যেত এবং চাষিরা অন্তত বিলে ধান রোপণ করতে পারত। অন্যদিকে যারা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত, তারাও কিছুটা স্বস্তি পেত।

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভরসা ছিল এই বিল ও নদীর মাছ। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে নামতো দরিদ্র পরিবারগুলো। যা পেত, তা বিক্রি করে দিনমজুর, কৃষক, জেলে পরিবারের সদস্যরা কোনওরকমে সংসার চালাত। কিন্তু এই বছর তাদের সেই শেষ ভরসাটুকুও চলে গেছে।

উপজেলার অধিকাংশ মানুষের প্রধান আয়ের উৎস ধান চাষ। কিন্তু চলতি বর্ষায় অতি বৃষ্টির কারণে অনেক জমিই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বহু কৃষক ধান রোপণ করতে পারেনি। কেউ রোপণ করেও ধান নষ্ট হওয়ার ভয়ে দিশেহারা। ফলে মানুষ দুই দিক থেকে বিপর্যস্ত – জমি নেই, মাছও নেই।

বেকারত্ব আর অভাবের চাপে অনেক পরিবারে অনাহারের ছবি স্পষ্ট। অনেক ঘরে দিনের পর দিন চুলা জ্বলছে না। ছোট ছোট শিশুরা ক্ষুধায় কাতর হয়ে কেঁদে উঠছে। অনেকে বাধ্য হয়ে ধারে-পত্রে চাল, ডাল, লবণ আনার চেষ্টা করছে, তাতেও ব্যর্থ হচ্ছে।

মানুষ যখন মাছ ধরে খেতে পারছে না, তখন এই সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। নদী-খালের মাছ ব্যবসা করে যারা সারা বছর বাজারে বিক্রি করত, তাদেরও আয় বন্ধ হয়ে গেছে।

অভাবের তাড়নায় চুরি-ডাকাতির ঘটনা বাড়ছে। সম্প্রতি ঢাকুরিয়া মাদ্রাসা পাড়ায় একটি মুদি দোকান থেকে ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন, চাল, হলুদ, লবণ, জিরা-মসলা চুরি হয়েছে। একই রাতে চার-পাঁচটি বাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় মানুষেরা বলছেন, এমন চুরি আগে কোনোদিন হয়নি।

মানুষ মরা বিলের শান্ত জলে এখন শুধুই নীরবতা। নেই মাছ ধরার আনন্দ, নেই নৌকার ছোঁয়া। মাছ আছে অথচ অসহায় মানুষের পাতে নেই এক টুকরোও। শুধু বঞ্চনা আর দুঃখের দীর্ঘশ্বাস।

এই অবস্থায় মনিরামপুর উপজেলার মানুষের প্রাণের দাবি, অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে পাটা ও কারেন্ট জাল অপসারণ করতে হবে। নদী-খালের প্রাকৃতিক প্রবাহ সচল করতে হবে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে চাষিরা আবার ধান রোপণ করতে পারবে। মাছ শিকারের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিলে অসংখ্য মানুষ অনাহার থেকে মুক্তি পাবে। সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা রক্ষারও আহ্বান জানিয়েছেন এলাকার ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার যশোর জার্নাল এ সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।

ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট