1. live@www.jashorejournal.com : jashorejournal.com : jashorejournal.com
  2. info@www.jashorejournal.com : jashorejournal.com :
সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মণিরামপুরে কিশোরীর অপমৃত্যু, আত্মহত্যার অভিযোগ যশোর জেনারেল হাসপাতালে ওষুধের হিসাব মেলেনি, তদন্ত কমিটি গঠন আন্দালিব রহমান পার্থকে এনপিজেএ বাংলাদেশের অভিনন্দন যশোর রেলরোড এলাকায় বসতঘরের চাল কেটে চুরি, স্বর্ণ-নগদ টাকা লুট এনপিজেএ আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠনে বাংলাদেশের উপদেষ্টা প্যানেলে তিনজনের নিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পোর্টাল সাংবাদিকদের সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক সংগঠন NPJA-এর বাংলাদেশ কমিটি ঘোষণা যশোরে শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ যশোর সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে আ-গুন, আতঙ্কে রোগীদের ছোটাছুটি চৌগাছায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তি, অবস্থা আশঙ্কাজনক যশোরে স্বর্ণের বারসহ যুবক আটক

যশোরের বকচর থেকে রাজারহাট: ফের সক্রিয় নকল-ভেজাল মবিল চক্র

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
  • ২২৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

যশোর শহরের মনিহার এলাকা থেকে রাজারহাট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে আবারও নকল ও ভেজাল লুব্রিকেন্ট (মবিল) তৈরির একাধিক অবৈধ কারখানা গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খোলা লুব্রিকেন্ট সংগ্রহ করে বিভিন্ন নামি-দামি ব্র্যান্ডের নকল বোতল, স্টিকার ও মোড়ক ব্যবহার করে বাজারজাত করছেন। এতে একদিকে যেমন ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে ক্ষতির মুখে পড়ছে বৈধ ব্যবসা এবং যানবাহনের ইঞ্জিনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব কারখানায় অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ পরিবেশে খোলা তেল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে বোতলজাত করা হয়। পরে সেগুলো যশোর জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান নিজেদের নামে বৈধভাবে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা ছাড়পত্র গ্রহণ করলেও, আড়ালে বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বিভিন্ন নামি-দামি ব্র্যান্ডের নকল বোতল, স্টিকার, সিল ও মোড়ক ব্যবহার করে ভেজাল লুব্রিকেন্ট বাজারজাত করছে। এতে ভোক্তারা প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডগুলোর সুনামও ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

এ ছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, নকল ও ভেজাল লুব্রিকেন্ট তৈরির কিছু কার্যক্রম আবাসিক এলাকার বাসাবাড়ি, গ্যারেজ ও ছোট গুদামঘরেও পরিচালিত হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা, অগ্নিঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, আবাসিক এলাকায় অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অভিযোগ রয়েছে, অতীতে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভেজাল লুব্রিকেন্ট, নকল বোতল, স্টিকার, মোড়ক ও উৎপাদন সরঞ্জাম জব্দ করে। বিভিন্ন ঘটনায় জরিমানা, মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, অভিযান শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই সংশ্লিষ্টরা স্থান পরিবর্তন করে আবারও একই কার্যক্রম শুরু করেন।

সম্প্রতি যশোরের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত অভিযানে নকল লুব্রিকেন্ট তৈরির কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ ভেজাল পণ্য, যন্ত্রপাতি ও নকল মোড়ক জব্দ করা হয়েছে। কয়েকটি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও জরিমানার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, অনুসন্ধানী সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদেরও নানা ধরনের বাধা ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন সাংবাদিকের দাবি, নকল-ভেজাল লুব্রিকেন্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীরা তথ্য সংগ্রহ বা কারখানা পরিদর্শনের চেষ্টা করলে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অশালীন আচরণ এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

মোটরযান সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, নিম্নমানের বা ভেজাল লুব্রিকেন্ট ব্যবহারের কারণে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস ও ট্রাকের ইঞ্জিন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে যানবাহনের মালিকদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে এবং সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

সচেতন মহলের দাবি, শুধু অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। নকল লুব্রিকেন্ট উৎপাদন ও বাজারজাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি, কঠোর আইনগত ব্যবস্থা, অবৈধ কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিকরা যাতে নিরাপদে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে অতীতেও জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে ভেজালবিরোধী অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এ প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, প্রতিষ্ঠান বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার যশোর জার্নাল এ সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।

ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট