1. live@www.jashorejournal.com : jashorejournal.com : jashorejournal.com
  2. info@www.jashorejournal.com : jashorejournal.com :
সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মনিরামপুরে ৯ টাকার চারা রোপণে খরচ দেখানো হয়েছে ৫০০ টাকা NPJA বাংলাদেশ কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন যশোর জার্নালের প্রকাশক ও সম্পাদক আসিফ আকবর সেতু ক্যাম্প-৮ইতে ফের গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ছয় বছরের শিশু; আতঙ্কে রোহিঙ্গারা যশোরে বাড়িতে ঢুকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ যশোরে প্রবাসফেরত ব্যক্তির ২০ লাখ টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ, স্ত্রীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা” মণিরামপুরে কিশোরীর অপমৃত্যু, আত্মহত্যার অভিযোগ যশোর জেনারেল হাসপাতালে ওষুধের হিসাব মেলেনি, তদন্ত কমিটি গঠন আন্দালিব রহমান পার্থকে এনপিজেএ বাংলাদেশের অভিনন্দন যশোর রেলরোড এলাকায় বসতঘরের চাল কেটে চুরি, স্বর্ণ-নগদ টাকা লুট এনপিজেএ আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠনে বাংলাদেশের উপদেষ্টা প্যানেলে তিনজনের নিয়োগ

মনিরামপুরে ৯ টাকার চারা রোপণে খরচ দেখানো হয়েছে ৫০০ টাকা

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

যশোর প্রতিনিধি:

যশোরের মনিরামপুরে সরকারি অর্থায়নে দুটি খাল পুনঃখননের পর খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিম্নমানের চারা ব্যবহার, কয়েকটি স্থানে চারা ও খাঁচা না থাকা এবং নির্ধারিত ব্যয়ের সঙ্গে বাস্তব কাজের অসামঞ্জস্যের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) দপ্তরের বিরুদ্ধে।

উপজেলার মশ্মিমনগর ও মোবারকপুর খালের তীরে মোট ১৪০টি চারা রোপণের জন্য ৭০ হাজার ১৯৬ টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, একটি চারা রোপণ ও তিন মাস পরিচর্যায় ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০১ টাকা ৪০ পয়সা।

পিআইও দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি চারার জন্য ৫০ টাকা, বাঁশের খাঁচায় ১২০ টাকা, বাঁশের খুঁটিতে ৫০ টাকা, নেটে ৭৫ টাকা, পরিবহনে ১৭ টাকা এবং তিন মাসের পরিচর্যায় ১৫০ টাকা ধরা হয়েছে। ভ্যাট বাদ দেওয়ার পর এ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে স্থানীয় বন বিভাগে আমলকী, অর্জুন ও জামের চারা ৯ টাকা দরে পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। সেই হিসাবে ১৪০টি চারা কিনতে ব্যয় হওয়ার কথা ১ হাজার ২৬০ টাকা। কিন্তু পিআইও দপ্তরের হিসাবে শুধু চারার দাম বাবদই ৭ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা দুই ইউপি সদস্যের দাবি, চারা কেনা, রোপণ, বাঁশের খাঁচা ও নেট স্থাপনের কাজ পিআইও দপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সরোয়ার হোসেন করেছেন। তাঁরা মূলত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

মোবারকপুর খাল প্রকল্পের সভাপতি সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য হালিমা খাতুন বলেন, চারা, নেট ও খাঁচা কেনার কাজ সরোয়ার হোসেন করেছেন। তিনি শুধু কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন মশ্মিমনগর প্রকল্পের সভাপতি সনৎ দত্ত।

তবে সরোয়ার হোসেন এ বিষয়ে পিআইও সেলিম খানকে দায়ী করেছেন। তাঁর দাবি, সরেজমিনে নার্সারি পরিদর্শন না করে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভোজগাতী এলাকা থেকে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে চারা কেনা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে পিআইও সেলিম খান বলেন, চারা কেনা থেকে শুরু করে রোপণের কাজ প্রকল্পের সভাপতিরাই করেছেন। সরোয়ার হোসেন তাঁদের কাজে সহযোগিতা করেছেন। পরে তিনি ব্যয়ের হিসাব দিয়েছেন।

সরেজমিনে মশ্মিমনগর ও মোবারকপুর খালপাড় ঘুরে কিছু অসঙ্গতির চিত্র দেখা যায়। মোবারকপুর খালে ৫০টি চারা রোপণের কথা থাকলেও পাঁচটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পিআইও দপ্তরের দাবি, খাঁচাসহ ওই পাঁচটি চারা চুরি হয়েছে।

মশ্মিমনগর খালপাড়েও কয়েকটি খাঁচায় চারা দেখা যায়নি। কোথাও মৃত ও নিম্নমানের চারা পাওয়া গেছে। আবার কিছু স্থানে নেট ও বাঁশের খুঁটিও ছিল না।

পিআইও দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১৪০টি চারার জন্য বাঁশের খুঁটিতে ৭ হাজার টাকা, নেটে ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং খাঁচায় ১৬ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। তবে সরেজমিনে এসব ব্যয়ের সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের চিত্র পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া তিন মাস চারার পরিচর্যার জন্য ২১ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা আব্দুল আলীম ও মতিয়ার রহমান জানান, তাঁরা এক মাসের জন্য ৫ হাজার টাকা করে পেয়েছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মশ্মিমনগর ও মোবারকপুর খাল পুনঃখনন প্রকল্পে মোট ৩৯ লাখ ২৫ হাজার ৫০২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। খাল পুনঃখনন শেষে মশ্মিমনগরে ৯০টি এবং মোবারকপুরে ৫০টি চারা লাগানোর কথা রয়েছে। এসব চারার মধ্যে অর্জুন, আমলকী, জাম ও আমড়া থাকার কথা বলা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে পিআইও সেলিম খান বলেন, চারার দাম তুলনামূলক বেশি হয়েছে। উপজেলা বন বিভাগে ৯ টাকায় চারা পাওয়া যায়—এ তথ্য তাঁর জানা ছিল না। তাঁর দাবি, রোপণের কাজ প্রকল্পের সভাপতিরাই করেছেন এবং অফিসের কেউ তাঁদের সহযোগিতা করে থাকতে পারেন।

চারা নিম্নমানের হওয়া কিংবা মারা যাওয়ার সুযোগ নেই দাবি করে তিনি বলেন, তিন মাসের জন্য দুজনকে পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো চারা নষ্ট হলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রকল্পের সভাপতিদের নিজ খরচে তা প্রতিস্থাপন করতে হবে।

উপসহকারী প্রকৌশলী সরোয়ার হোসেন প্রসঙ্গে সেলিম খান বলেন, ২০২৪ সালের জুনে ইজিপিপি প্রকল্প শেষ হওয়ার পর তাঁদের বেতন বন্ধ রয়েছে। চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে তাঁরা মামলা করেছেন। মাস্টার রোলে প্রকল্পের সভাপতিদের সহযোগিতা করে সরোয়ার যে অর্থ পান, তা দিয়েই তিনি নিজের খরচ চালান।

এদিকে মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খালপাড়ে বৃক্ষরোপণের কাজ পিআইও দপ্তরের মাধ্যমে হয়েছে। বিষয়টি যাচাই করতে তিনি সরেজমিনে গিয়ে চারাগুলোর বর্তমান অবস্থা দেখবেন।

তথ্য সুত্র: আজকের পত্রিকা

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার যশোর জার্নাল এ সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।

ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট