
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া এলাকায় নেহালপুর ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের নামে উত্তোলন করা ২০ টন ইউরিয়া সার ‘৪ ভাই এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী রাজু আহমেদের প্রতিষ্ঠানে নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় চালান ও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বিপুল পরিমাণ সার অন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, চার ভাই এন্টারপ্রাইজের প্রতিষ্ঠানে আগে থেকেই প্রায় ৩০০ বস্তা সার মজুদ ছিল। এর মধ্যে নেহালপুর ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের নামে আরও ২০ টন, অর্থাৎ ৪০০ বস্তা বিসিআইসি ইউরিয়া সার এনে মজুদ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একটি প্রতিষ্ঠানের নামে উত্তোলন করা সার অন্য প্রতিষ্ঠানে কী প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে, এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চালান ও কাগজপত্র ছিল কি না এবং সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে চার ভাই এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রাজু আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মনিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা দর্পন তাকে সারগুলো নিতে বলেছিলেন।
রাজু আহমেদ বলেন, “আমার এলাকায় ব্যবসায়ী হিসেবে ভালো পরিচিতি ও সুনাম রয়েছে। আমার প্রতিষ্ঠানে সারের বিক্রিও ভালো এবং এলাকায় সারের চাহিদা রয়েছে। ব্যবসায়িক প্রয়োজন বিবেচনা করেই আমি সারগুলো গ্রহণ করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “সার নেওয়ার সময় আমি দুই দিন পর টাকা পরিশোধ করার কথা জানিয়েছিলাম। এরপরও সংশ্লিষ্টরা আমাকে সার দিয়েছেন। উপ-সহকারী কর্মকর্তা দর্পনের পরামর্শ অনুযায়ী এবং তাদের দেওয়া সার হিসেবেই আমি তা গ্রহণ করেছি। এখানে আমার পক্ষ থেকে কোনো অনিয়ম করার উদ্দেশ্য ছিল না।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা জানান, কোনো এলাকায় বা কোনো ব্যবসায়ীর সারের সংকট দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী অফিস বা সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছ থেকে কিছু পরিমাণ সার নিয়ে বিক্রি করার সুযোগ থাকতে পারে।
তিনি বলেন, “কোনো এলাকায় বা ব্যবসায়ীর সারের সংকট হলে সে কিছু পরিমাণ সার অফিস থেকে বা ডিলারের কাছ থেকে নিয়ে বিক্রি করতে পারেন। তবে একসঙ্গে ৪০০ বস্তা সার নেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়।”
এদিকে বিসিআইসি সার গুদাম, যশোর অফিসের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, কোনো এলাকায় সারের জরুরি প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমিত পরিমাণে, যেমন ১০ থেকে ২০ বস্তা সার নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে একসঙ্গে ৪০০ বস্তা সার নেওয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়।
ফলে নেহালপুর ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের নামে উত্তোলন করা ২০ টন বা ৪০০ বস্তা ইউরিয়া সার কী প্রক্রিয়ায় ৪ ভাই এন্টারপ্রাইজে পৌঁছেছে, কার অনুমোদনে তা দেওয়া হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চালান ও সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী কর্মকর্তা দর্পনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।
সার বিতরণ ও মজুদের ক্ষেত্রে কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।