
যশোরের কেশবপুরে ভেজাল দুধ উৎপাদনের একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে প্রশাসন। সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের পাথরঘাটা গ্রামের ঘোষপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল দুধ তৈরির অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়।
অভিযান পরিচালনার সময় গরুর দুধের সঙ্গে জেলি, তেল ও সোডাসহ বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে দুধ তৈরির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্ত ছয়জনকে মোট ছয় লাখ টাকা জরিমানা এবং বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পাথরঘাটা গ্রামের মিলন ঘোষ (৩০), অরূপ ঘোষ (২৯), স্বপন ঘোষ (৬৮), রামপ্রসাদ ঘোষ (২৯), বুদ্ধদেব ঘোষ (২৮) ও পার্থ ঘোষ (১৯)।
অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেকসোনা খাতুন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি যশোর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও র্যাব সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাথরঘাটা গ্রামের ঘোষপাড়া এলাকায় যৌথভাবে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ভেজাল দুধ তৈরির বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো জনসম্মুখে নষ্ট করে ফেলা হয়।
অভিযানে যশোর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম এবং র্যাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
র্যাব-৬ যশোর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ.টি.এম ফজলে রাব্বী জানান, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। দুধে বিভিন্ন উপকরণ ও রাসায়নিক মিশিয়ে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ভেজাল খাদ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চার সন্তানের জননী রোখসানা আক্তার বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ নাসের বলেন, ভেজাল খাদ্য উৎপাদন বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
কলেজ অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান বলেন, খাদ্য উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক ও বেসরকারি উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যবসায়ী ও শিল্পী রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে ভেজাল প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, জনগণের নিরাপদ খাদ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।