1. live@www.jashorejournal.com : jashorejournal.com : jashorejournal.com
  2. info@www.jashorejournal.com : jashorejournal.com :
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যশোরে ছাত্রআন্দোলন নেতার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ যশোর উপশহর পুলিশ ক্যাম্পে নতুন আইসি অলক কুমার দে শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে যশোরের আলোচিত চিকিৎসক ডা. রাফসান আটক খুলনায় বিএনপি অফিসে ঢুকে দুজনকে গু’লি, আ’হত ২ দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অ’ভিযানে বিপুল পরিমাণ অ’বৈধ পণ্য জব্দ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে যশোরে র‍্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি ভ্রমণ ভিসা স্বাভাবিক না হওয়ায় বেনাপোলে কমছে যাত্রী চলাচল শেকৃবির পিএইচডি প্রথম সেমিস্টারে কৃতিত্ব দেখালেন যশোর মণিরামপুরের সন্তান বিএম আলমগীর কবীর পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এ সম্মাননা পেলেন পিবিআই যশোরের এসআই আলমগীর হোসেন

যশোরে ভুয়া পোর্টালে ‘সরকারি রেজাল্ট’ দেখিয়ে প্রশিক্ষণের ফাঁদ

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫০৯ বার পড়া হয়েছে

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

যশোর শহরে ভুয়া সনদের মাধ্যমে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী তৈরির অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন সময় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাময়িকভাবে কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে একই ধরনের কার্যক্রম আবারও শুরু হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ অভিযোগের কেন্দ্র যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে অবস্থিত ‘প্যারামেডিকেল অ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন (পিটিএফ)’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বিএম শামীম নামের এক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন। সাইনবোর্ডে বড় অক্ষরে উল্লেখ করা হয়েছে—এখানে এলোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি, ইউনানী, নার্সিং, ডেন্টাল, প্যাথলজি, ফিজিওথেরাপি, গবাদি পশু চিকিৎসা ও ভূমি জরিপসহ নানা কোর্স করানো হয়। পাশাপাশি বেকারত্ব দূরীকরণের দাবিও করা হয়েছে। তবে সাইনবোর্ডে ব্যবহৃত কিছু সরকারি নিবন্ধন নম্বর ভুয়া বলে অভিযোগ উঠেছে, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, নার্সিং, ডেন্টাল, প্যাথলজি বা গ্রাম ডাক্তারি কোর্স পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। গ্রাম ডাক্তার ও ডেন্টাল সহকারী কোর্স করাতে পারে কেবল সরকার স্বীকৃত মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস)। আর নার্সিং শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োজন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের অনুমোদন। অভিযোগ রয়েছে, পিটিএফ এসব অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছে।

সবচেয়ে বিতর্কের বিষয় হলো—স্বাস্থ্যবিষয়ক কোর্স পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটি নাকি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতির কথা উল্লেখ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রশিক্ষণ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের এখতিয়ারভুক্ত; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতিতে এমন কোর্স পরিচালনা আইনসঙ্গত নয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, কারাগারের সামনে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় কয়েকটি কক্ষে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছে। রিসিপশনে থাকা এক নারী জানান, বর্তমানে ৩০–৪০ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি রয়েছে এবং নতুন ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। তিনি কোর্স শেষে ‘সরকারি সার্টিফিকেট’ দেওয়ার কথাও বলেন।

প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ভর্তি ফি হিসেবে নেওয়া হচ্ছে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। মাসিক ফি ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত। ভর্তি সময় শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে—কোর্স শেষে সরকারি সনদ মিলবে।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, পিটিএফের সরকারি সনদ দেওয়ার কোনো আইনগত ক্ষমতা নেই। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের বিশ্বাস করাতে তারা নিজেরাই একটি ওয়েব পোর্টাল তৈরি করেছে, যেখানে পরীক্ষার ফলাফল ও রোল নম্বর প্রকাশ করা হয়। অনেক শিক্ষার্থী সেটিকে সরকারি ওয়েবসাইট মনে করে বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন উপজেলায় ‘স্বাস্থ্যকর্মী’ পরিচয়ে কিছু নারীকে নিয়োগ দিয়েছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসেবার কথা বলে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করেন। মাসিক বেতনের বিনিময়ে এই কাজ করা হয় বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে পিটিএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিএম শামীম বলেন, তিনি একটি জয়েন্ট স্টক কোম্পানির কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছেন। বর্তমানে শুধু পল্লী চিকিৎসক কোর্স চালু আছে দাবি করে তিনি বলেন, অন্যান্য কোর্স এখনো শুরু হয়নি। পাশাপাশি ম্যাটস থেকে অনুমোদন নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—আইনগত অনুমোদন ছাড়াই প্রকাশ্যে এমন কার্যক্রম কীভাবে চলতে পারে, আর প্রশাসনের নজরদারি কোথায়?

চলবে….

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার যশোর জার্নাল এ সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।

ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট