
নিজেস্ব প্রতিবেদক:
বেনাপোল স্থলবন্দর-এর আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে আগের মতো যাত্রীদের ভিড় আর দেখা যাচ্ছে না। ভারতের ভ্রমণ ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় দিন দিন কমছে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত। এর প্রভাব পড়েছে সীমান্ত এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও ভ্রমণনির্ভর অর্থনীতিতে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারত সরকার বাংলাদেশিদের ভ্রমণ ভিসায় বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। পরে সীমিত আকারে মেডিকেল ভিসা চালু হলেও পর্যটন, ব্যবসা ও সাধারণ ভ্রমণ ভিসা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
এ কারণে চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে ভারতে যাতায়াতকারী বাংলাদেশির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের মধ্যে মোট ৭২৫ জন যাত্রী যাতায়াত করেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি ছিলেন ৫৭৪ জন, ভারতীয় ১৫০ জন এবং অন্য দেশের একজন নাগরিক।
স্থানীয় মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ী মশিয়ার রহমান বলেন, একসময় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যাত্রীদের ভিড়ে সরগরম থাকত প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল। ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, ট্রাভেল এজেন্সি, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতে ছিল ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য। বর্তমানে যাত্রী সংকটে প্রায় সবখানেই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, যাত্রী কমে যাওয়ায় ট্রাভেল এজেন্সি, পরিবহন শ্রমিক, হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও ছোট ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
পাসপোর্টধারী কয়েকজন যাত্রী বলেন, ভারতে চিকিৎসা ও ভ্রমণের জন্য এখনও ভিসা পেতে নানা জটিলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ভারতের নির্বাচন শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা থাকলেও এখনো সেই জট কাটেনি।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, যাত্রীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তবে ভিসা জটিলতার কারণে আগের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তারা আশাবাদী।
এদিকে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, ভারত সরকার দ্রুত ভ্রমণ ভিসা স্বাভাবিক করলে দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে চিকিৎসা, পর্যটন ও সীমান্ত এলাকার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক গতি ফিরে আসবে।